ভিটামিন সি এর অভাবজনিত সমস্যা ও রোগ



ভিটামিন সি বা  এল-অ্যাস্করবিক এসিড কিংবা শুধু অ্যাস্করবেট (অ্যাস্করবিক এসিডের অ্যানায়ন) হল মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টিপদার্থ। ‘ভিটামিন সি’ দ্বারা মূলত এর একাধিক ভিটামারকে বোঝানো হয় যেগুলো প্রাণী ও উদ্ভিদের দেহে ভিটামিন সি এর মত কাজ করে। এসব ভিটামারের মধ্যে অ্যাস্করবিক এসিডসহ এর বিভিন্ন লবণ ও ডিহাইড্রোঅ্যাস্করবিক এসিডের মত কিছু জারিত যৌগ বিদ্যমান। অ্যাস্করবেট বা অ্যাস্করবিক এসিড, এ দুয়ের যেকোন একটি দেহে প্রবেশ করলে প্রাকৃতিকভাবে দুটি পদার্থই প্রস্তুত হয়। এর কারণ, এরা pH এর মানের তারতম্যের সাথে একটি থেকে আরেকটিতে রূপান্তরিত হতে পারে। এটি কমপক্ষে আট রকমের এনজাইম সংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় কো-ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, এটি বিভিন্ন কোলাজেন সংশ্লেষণ বিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যেগুলোর অভাবে স্কার্ভি রোগের উপসর্গসমূহ দেখা দেয়। প্রাণীদের দেহে এ বিক্রিয়াসমূহ প্রধাণত ক্ষত-পূরণে ও কৈশিক রক্তনালী থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে। অ্যাস্করবেট জারণজনিত পীড়ন রোধে একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

অভাবজনিত সমস্যা ও রোগঃ

১. যাঁদের শরীরে ভিটামিন সি-এর অভাব রয়েছে, তারা খুব সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। শরীরে শক্তি কমে যায়, অবসন্ন হয়ে পড়েন।

২. শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হলে বিরক্তিভাব দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

৩. যাদের শরীরে ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হয়, তাদের হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে।

৪. ভিটামিন সি-এর অভাব হলে গিঁটে ব্যথা বা পেশিতে ব্যথার সমস্যা হয়।

৫. ভিটামিন সি-এর অভাব হলে দেহে কালশিটে দাগ পড়ে।

৬. ভিটামিন সি দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে। এর ঘাটতি দেখা দিলে এসব অংশে সমস্যা হতে পারে।

৭. ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়াও ভিটামিন সি-এর ঘাটতির লক্ষণ।

৮. ভিটামিন সি-এর ঘাটতি হলে শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।



Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*